ইন্টেরিয়র ডিজাইন কেইস স্টাডিঃ গুগল হেডকোয়ার্টার্স

কোন অফিস কাজ করার জন্য সবচেয়ে ভালো? কোন অফিসের এমপ্লয়াররা কাজ করে সবচেয়ে সন্তুষ্ট? আমি নিশ্চিত আপনি মনে মনে বলছেন, গুগল। গুগলের কাজ সম্পর্কে ডিটেইলস বলার কোন মানে হয় না, তা আপনি জানেন। বরং আজ চলুন গুগলের ক্যালিফোর্নিয়ার অফিস বা গুগল হেডকোয়ার্টার্স বা গুগলপ্লেক্স নিয়ে কথা বলি। গুগল কেন কাজ করার জন্য সবচেয়ে উপযোগী? কিভাবে গুগল তাদের ইন্টেরিয়র ডিজাইন প্ল্যান করে যাতে এমপ্লয়িদের সর্বোচ্চ সুবিধাও দেয়া যায়, আবার তাদের প্রোডাক্টিভিটিও সর্বোচ্চ থাকে।

1. Openness

গুগলের সবগুলো অফিসে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, খোলামেলা পরিবেশে ওরা সব যায়গায় মেনটেইন করে। নিঃসন্দেহে এটা ওদের এমপ্লয়িদের জন্য প্রোডাক্টিভ। খোলামেলা পরিবেশ, যথেষ্ট আলো-বাতাস আর এনাফ পার্সনাল স্পেইস – গবেষকদের মতে এমপ্লয়ারদের শরীর, মন এবং পারফর্ম্যান্সের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিশেষ করে ঢাকার অফিসগুলোর স্পেইস যথেষ্ট কম। তাই বলে যে অফিসে ওপেননেস রাখা যাবে না তা কিন্তু ভুল। আপনি চাইলে ছোট যায়গাও খোলামেলা রাখতে পারেন। সে ক্ষেত্রে দক্ষ ইন্টেরিয়র ডিজাইনারের কনসাল্টেন্সি নিতে পারেন।

 

2. Scientific interior design

আমরা সবসময় বলি, ইন্টেরিয়র ডিজাইন যতটা আর্ট, ততটাই সায়েন্স। গুগলের অফিসগুলোতে দেখবেন ডিজাইনের প্রতিটা অ্যাসপেক্ট সায়েন্স মেনে চলে। উপরে গুগলপ্লেক্সের ডায়েনিংয়ের ছবিটা দেখুন। কালারফুল চেয়ার আর দেয়াল একটা উষ্ণ আন্তরিক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। আর উচু সিলিং ডায়েনিংকে চমৎকার এক মিটিং প্লেসে পরিণত করেছে।

 

3. Brand identity

গুগল হেডকোয়ার্টার্সের যেকোন যায়গায় গুগলের ব্র্যান্ড আইডেন্টিটি দেখতে পাবেন। এই যেমন খেলার যায়গাটিতেও অ্যান্ড্রয়েডের লোগো প্রকাশ করে ব্র্যান্ড আইডেন্টিটির বিষয়ে গুগল কতটা গুরুত্ব দেয়।

 

4. Welcoming

গুগল হেডকোয়ার্টার্সের ইন্টেরিয়র দেখলে আপনার মনে হবে যে কোন যায়গা আপনাকে ওয়েলকাম জানাচ্ছে। ভেতরের লাইট, কালার থেকে শুরু করে ফার্নিচারগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা যাতে এমপ্লয়িদের ম্যাক্সিমাম প্রোডাক্টিভিটি বের করে আনা যায়। যেমন ধরুন উপরের এমপ্লয়িকে যে চেয়ারে বসেই কাজ করতে হবে এমন কথা নেই। সে যদি বলের উপর বসে আরামে কাজ করতে পারে তাতে প্রবলেম কোথায়?

 

5. Light

গুগলের যেকোন অফিসে লক্ষ্য করলে দেখা যায় ওরা লাইটিংকে খুবই গুরুত্ব দেয়। সব যায়গায় অপটিমাম লাইট থাকা নিশ্চিত করে। এতে ইন্টেরিয়র এনভায়ারনমেন্ট যেমন চমৎকার দেখায়, তেমনি পজেটিভ এফেক্ট পরে এমপ্লয়িদের কাজের উপর। উপরের ছবিটি গুগলপ্লেক্সের একটি কিচেন। অনেক অনেক লাইট সোর্স আর রিফ্লেক্টিং সারফেসের কারণে এখানে আলোর কোনরকম কমতি নেই।

 

6. Color

মাউন্টেইন ভিউ এর গুগলপ্লেক্সের সবচেয়ে আলাদা ও চোখে পড়ার মতো বৈশিষ্ট হচ্ছে কালারফুল ইন্টেরিয়র ডিজাইন। এখানে প্রায় সব যায়গায় নানা রংয়ের ছড়াছড়ি। যার প্রভাবে এখানকার আকর্ষনীয়তা এমপ্লয়ি এবং ভিজিটরদের কাছে অন্যান্য অফিসের তুলনায় অনেক বেশি।

 

7. Green

গুগল হেডকোয়ার্টার্সে গাছ-পালা থাকবে না এ তো হতে পারে না। প্রচুর ন্যাচারাল এলিমেন্ট এখানকার ইন্টেরিয়র ডিজাইনে রাখা হয়েছে।

 

8. Rest

গুগল অফিস কেন এমপ্লয়িদের কাছে প্রিয় সেই লিস্টের প্রথম দিকে থাকবে যথেষ্ট রেস্ট করার সুযোগ। চমৎকার ইনোভেটিভ রেস্টিং পড রয়েছে যেখানে এমপ্লয়িরা ক্লান্তি কাটিয়ে উঠতে পারেন সহজেই। সেই সাথে রয়েছে ম্যাসাজ রুম। এমপ্লয়িদের শারিরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সতেজ রাখতে যা কিছু প্রয়োজন রাখা হয়েছে এই অফিসের ইন্টেরিয়রে।

By | 2018-09-15T16:23:32+00:00 September 15th, 2018|Case Study, Office Interior Design|0 Comments

Leave A Comment